Blog

ভালোবাসায় ভালোলাগার ভালোবাসা

রুচিশীলতার সাথে যদি সাধ এবং সাধ্যের সমন্বয় না থাকে, তাহলে একটি ঘর কখনোই ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয় না। হোক না ঘরটি ছোট, গৃহসজ্জায় রুচিশীলতা না থাকলে সেখানে যতই টাকা খরচ করা হোক, প্রাণ আসবে না।আমাদের সবার মনেই ইচ্ছা থাকে ঘরটি সুন্দর করে সাজানোর। সেটা হতে পারে নিজে হাতে, হতে পারে ইন্টেরিওর ডিজাইনার দিয়ে। আসল বিষয় হলো ঘরটিকে যেন আপন ঠিকানা মনে হয়। ভালোবাসা দিয়ে ভালোলাগার এই ঘরটিকে নিত্য নতুন আসবাব দিয়ে সাজানোর প্রয়াস থাকে সবসময়। কেননা, বাসাটি শুধু মাথা গোঁজার ঠাই ই নয়, একটি নিজস্ব পৃথিবী।

সদা সর্বস্ব দিয়ে আমাদের চেষ্টা থাকে যেন ঘরের মানুষের মতো ঘরটিও যেন সুন্দর হয়। মিল থাকে যেন বাসার আসবাব ও রঙের সাথে মানুষের মনের। ব্যাক্তিত্বের যথাযথ বহিপ্রকাশ পায় আর সাথে সাথে অপার শান্তিটুকো মিলে। বাঙালিপনার সহজাত প্রবিত্তি এটি। ঘরকে ঘিরেই আপন দুনিয়া। ঘরকে ঘিরেই দিনের আবর্তন। আধুনিকতার ছোঁয়ার সাথে বাঙালি আবহ বজার রাখার প্রয়াস আমাদের অনন্ত।

যার নিজের মতো একটি ঘর নেই, সে কখনই জানবে না নিজস্বতার কি মূল্য। কি আনন্দ সেই পৃথিবীতে। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, আমরা অনেক সময়ই সাধ আর সাধের মিল ঘটাতে গিয়ে রুচিশীলতার পরিচয় দিতে পারি না। অনেক ভুল করে ফেলি। যার ফলে ভালোবাসার সেই বাসাটি আমাদের ব্যক্তিত্বের প্রকাশক হয়ে উঠে না। আমরা খুব করে চাই,অ্যাপার্টমেন্টটি ছোট বা বড় হোক, সেখানে যেন অনুভব হয়, ঘরটি আমার।এই ঘরের মানুষের মত ঘরটিও পরিচ্ছন্ন, নিরিবিলি আর আদর্শ।

ঘর সাজাতে আমরা যে ছোটখাট ভুল গুলো করে থাকি, সেগুলো নিয়েই আজ আমরা একটু বিশদ আলোচনা করবো। চলুন এক নজরে দেখে আসি অ্যাপার্টমেন্ট সাজানোর সময় আমাদের ছোটখাটো ভুলগুলো।

ঘরের সাজ সবসময় একই রাখা

এই ভুল আমরা কম বেশি সবাই ই করে থাকি। এক সাজে কোন ঘর বেশিদিন রাখলে, তার প্রতি টান কমে যায়। যেমন আপনি যদি কোন একটি স্থানে নির্দিষ্ট কোন ফার্নিচার বেশি দিন ফেলে রাখেন, প্রতিদিনের চলাফেরায় আপনি এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন যে, সেটার প্রতি আকর্ষণ একেবারেই কমে যাবে। ভুলেও ফিরে তাকাবেন না সেই আসবাবের দিকে। আর তখনই চিন্তা করবেন নতুন ফার্নিচার কেনার কথা। একটু ভেবে দেখুন। খুবই বাস্তবস্মমত ব্যাপার এটি যা সবাই করে থাকি কোন না কোন সময়। ভালোলাগার সেই ঘরে চলে আসবে একঘেয়েমি শুধুমাত্র সাজ না বদলানোর দরুন।

২-৩ মাস পর পর তাই আসবাব পত্র নাড়াচাড়া করুন। পাল্টে ফেলুন আপনার অন্দরসজ্জা। একঘেয়েমি কেটে যাবে। আপন ঘরের প্রতি সেই হারানো টান ফিরে আসবে প্রবল ভাবে।

খালি জায়গা না রাখা

কোন খালি জায়গা দেখলেই হয়। দুম করে সেখানে কিছু রাখা চাই ই চাই। হোক সেতা দেয়ালের কোন অংশ, বুক শেলফ বা টেবিল, কিংবা ড্রয়িং রুম এর কোন খালি জায়গা। খুবই খারাপ একটি স্বভাব। খালি জায়গা পেলেই সেটা কোন কিছু দিয়ে পূর্ণ করার জন্য উঠেপড়ে লাগবেন না। সত্যি বলতে এটা এক ধরণের জঞ্জাল জমানোর মত অবস্থা। আমরা নিশ্চয়ই কেউই চাই না আমাদের ঘরটি দেখতে জঞ্জালের মত লাগুক। আর সবচেয়ে বড় যে ভুলটি আমরা করি তা হলো সেই খালি জায়গাটিতে রাখার জন্য হালকা কোন ঘর সাজানি জিনিস না কিনে কিনে আনি আসবাবপত্র। একবার ভেবে দেখুন তো, এভাবে চলতে থাকলে কিছু বছর পর আপনার বাসার কি অবস্থা হবে? ঘরে হাঁটাহাঁটি বা পা রাখারই কোন জায়গা থাকবে না। সেই ঘরে নিঃশ্বাস নিবেন কেমন করে। আর যদি বাচ্চা কাচ্চা থাকে তাহলে তো কথাই নেই।

এই অপরিকল্পত কেনাকাটা সুন্দর একটি অ্যাপার্টমেন্ট নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। ঘরে যদি আপনি আসবাবপত্রের জন্য চলাফেরাই করতে না পারেন, তাহলে সেটা কি ঘর থাকে বলুন?

ছবি দেখে ঘর সাজানোর চেষ্টা

অনেকেই আমরা এই ভুলটি করে থাকি। পত্রিকায় বা ইন্টারনেটে কোন ঘরের ছবি আমাদের মনে ধরে গেলে সেইভাবে ঘর সাজানো শুরু করি। এখানে এটা আসলে কোন ভুল না। তবে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হবে এই ক্ষেত্রে। যেনতেন ভাবে আসবাব কিনে ছবির মত রাখলে সেই ঘরের সৌন্দর্য বলে কিছু থাকবে না। সর্ব প্রথমে খুব ভালো করে ছবির ঘরের সাথে আপনার নিজের ঘরের নকশা মিলিয়ে নিন। আপনার বাড়ির কাঠামো আর ছবির কাঠামো কি এক? ছবির ঘর গুলো দেখবেন একেবারে যেন ছকে আঁকা। ছবির ঘরে দেয়ালের অবস্থান, জানলা থেকে দরজার দূরত্ব সবকিছু মেপে নিন। তারপর সেই অনুপাতে নিজের ঘরে আসবাব সাজান। সাথে নিজের ঘরের আকার আয়তন মেপে নিন এবং ছবির ঘরের সাথে মিলিয়ে দেখুন। যদি সব মিলে যায় তাহলে ছবির মতই সুন্দর লাগবে আপনার ঘর। আরো একটি বিষয় খেয়াল রাখুন।

ছবির ঘর যদি আধুনিক হয় আর আপনার বাড়ির কাঠামো যদি হয় পুরাতন, তাহলে যতই আকার আয়তন মিলুক, সেভাবে সাজালে নিতান্তই বেখাপ্পা এবং বেমানান লাগবে। আশা করি এই ভুল গুলো আমরা খেয়াল রাখবো।

আবোল তাবোল কেনাকাটায় টাকা খরচ করা

এই ভুল সচরাচর আমরা নতুন বাসায় উঠার সময় করে থাকি। আর তখন এই ঘর সাজানো নিয়ে মনে পাগলামি একটা ভাব থাকে। আর এই সময়টায় যখন নিজের সাধ, পছন্দ আর রুচির সাথে সাধ্যের মিল করা না হয়, তখনই ঘটে বিপত্তি। সবচেয়ে বড় প্রবণতা থাকে কোনটা ছেড়ে কোনটা কিনব। সব কিছুই তখন চোখের সামনে দৃষ্টি নন্দন মনে হয়। আরে এই দিশেহারা মনোভাবের পাল্লায় পরে আবোল তাবোল জিনিস কেনা হয়। এমন ও অনেক সময় হয় যে ঘরের সাজের সাথে যাচ্ছে না, তবু ভালো লাগছে বলে আমরা কিনে ফেলছি। এভাবে ক্রমে ক্রমে অপ্রয়োজনীয় আর বেমানান আসবাবে ভরে উঠে ঘর। তখন নিজেকে নিজে সান্তনা দেই এই বলে যে একবার ঘর পুরো সাজানো হয়ে গেলে অতটা খারাপ লাগবে না। এই ধ্যান ধারণাটি খুব খারাপ। একবার কেনা হয়ে গেলে, যেকোন আসবাব বদলানো মুশকিল।

তাই এখন থেকেই এই বিষয়ে ভাবা শুরু করুন। একটি টোটাল লিস্ট তৈরী করে ফেলুন কি কি আসবাব এবং ঘর সাজানি জিনিস কিনবেন। মার্কেটে গেলে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। দেখবেন পরিপাটি ভাবে সেজে উঠেছে আপনার আপন ঠিকানা।

নতুন ও পুরাতনের সঠিক সমন্বয় না করা

ঘরে যে কেবল নতুন মালামাল ই থাকবে তা কিন্তু নয়। যদি পুরাতন আসবাব থাকে, তাহলে তা বিক্রি করে সব নতুন বা সব পুরাতন আসবাব দিয়ে ঘর ভর্তি করার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে দিন। এতে হয়তো আপনার বুদ্ধির প্রকাশ ঘটবে, কিন্তু কোন ভাবেই রুচিশীল বা সৃজনশীল হবে না। তাই সব দিক দিয়েই চিন্তা করুন। চেষ্টা করুন সমন্বয় ঘটানোর। যদি পুরনো আসবাবটি দশা সই সাইজের হয়, তাহলে তা বদলে ফেলাই ভালো। অথবা এতা দিয়ে নতুন কিছু বানিয়ে নিতে পারেন। আর যদি পুরনো আসবাবটি দেখতে সুন্দর এবং আধুনিক দুটোই হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই।

মনে রাখবেন, ঘর সাজানোর সময় কখনোই অধৈর্য হতে নেই। সঠিক আসবাব না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নতুবা ভুল জিনিস কিনে ক’দিন পরে আপনার নিজের ই আফসোস হতে পারে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভালো কিছু ভালো হোম ডেকর কোম্পানির মধ্যে গ্রাহকদের নিকট সঠিক সময়ে গতানুগতিক আসবাবপত্র পৌছে দেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মেলিওর ডেকো। মিরপুর ডিওএইচএস-এ অবস্থিত এই কোম্পানি টি সকল ধরনের হোম ডেকর সার্ভিস দিয়ে থাকে। বিশেষত তাদের বেশিরভাগ আসবাব, ঘর সাজানি, লাইট, পেইন্টিংস বাহির থেকে আমদানি করা। একবার ঢু মেরে দেখে আসতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Get a free quote for your project. Click here.