Category: News

সাজিয়ে তুলুন আপন আঙিনা

নিজের একটি ঘর, পরিপাটি বিছানা, আর সুন্দর কিছু আসবাবপত্র। হোক না ছোট, নিজের বাসাটিকে আপন মনে সাজিয়ে তোলার বাসনা কার না থাকে? সকালের এক চিলতে রোদ্দুর জানলা দিয়ে ঢুকে রাতের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিক। নতুন দিনের শুরুতে সুন্দর পরিপাটি একটি ঘরে চোখ মেলে তাকালে, শরীর ও মন দুটোই চনমনে হয়ে উঠে। তবে একান্তই নিজের মন মতো আপন ঘরটি সাজানো সবসময় চাইলেই সম্ভব হয়না। সাধ আর সাধ্যের মাঝে থাকে বিশাল ফারাক। কিন্তু বাঙালি মন। বুঝতেই পারছেন। যেভাবেই হোক, সবসময় আমাদের মন থাকে ওই সুন্দর করে অ্যাপার্টমেন্টটি সাজিয়ে তোলার দিকেই। চলুন তবে আজ জেনে নেই কম খরচে নিজের ছোট্ট আঙ্গিনাটি আরো কত সুন্দর করে তোলা যায়। পরিশেষে কিছু ছোট খাটো ভুলের উপর ও একটু আলোচনা করবো। চলুন দেখে আসি সেই কৌশলগুলো একনজরে।

দেয়ালটি করে ফেলুন আকর্ষণীয়

দেয়াল সাজানোর জন্য যে একগাদা টাকা খরচ করতে হবে কে বলেছে? নিজেই নিজের মনমতো সাধ্যানুযায়ী ভাবে চেষ্টা করুন। বর্তমানে কম খরচায় অনেক সুন্দর অয়েল পেইন্টিং পাওয়া যায়। এছাড়া শুধু উজ্জ্বল রঙের কারিশমায় ও দেয়াল করে তোলা যায় আকর্ষণীয়। এছাড়াও আপনার প্রিয় কোন ছবি, ফটোগ্রাফ বাঁধাই করে দেয়ালে টানিয়ে দিতে পারেন। শোভা বৃদ্ধির সাথে সাথে ইউনিক লুক নিয়ে আসবে। নতুন কিছু হোম ডেকর কোম্পানি সম্প্রতি চালু হয়েছে যারা আপনার প্রয়োজনে এই কাজ গুলো করে দিতে পারে নিতান্তই নাম মাত্র খরচে।

সম্ভব হলে হ্যান্ডমেড

খরচ বাঁচাতে আপনি কিছু জিনিস নিজের হাতেই তৈরি করতে পারেন। যেমন ধরুন কলমদানি, ফুলদানি, ফ্রেম ইত্যাদি। খুবই কম পরিশ্রমে এগুলো বানিয়ে ফেলা যায়। ইউটিউবে এমন হাজারো হ্যান্ডমেড জিনিসের ভিডিও পাবেন। ঘরের সবকিছু ভালো দোকান থেকে কিনলেই সুন্দর হয় না। সম্ভব হলে ঘরে নিজে হাতে বানানো জিনিস রাখুন। নিজস্বতা আসবে আর দেখতেও ভালো লাগবে।

পুরোন আসবাবে নেই ভয়

অনেক কেই বলতে শুনি যে তারা সেকেন্ড হ্যান্ড আসবাব কিনতে চান না। খেয়াল করে দেখুন, সব নতুন কিনতে হলে কিন্তু সেই গাদা গাদা টাকা খরচ হবে। দেখেশুনে পুরনো আসবাব বা ঘর সাজুনি যদি ভালো পাওয়া যায়, তাহলে খারাপ কি? শুধু দেখবেন যেনো সুন্দর হয় আর আপনার ঘরের বাকি সব আসবাবের সাথে যায়। আর সাধ্যে কুলোলে, নতুন তো আছেই কেনার জন্য।

ভবিষ্যতের কথা ভুলে যাবেননা যেন

অবশ্যই এমন কোন জিনিস কিনবেন না যা খুব ভারী আর নাড়াচাড়া করতে কষ্ট হয়। ভারী কোন কিছু কেনার আগে এই ব্যাপার গুলো মাথায় রেখে দ্বিতীয়বারের মতো ভাবুন। অদূর ভবিষ্যতে বিয়ে করবেন। বাচ্চা এখন হয়তো নেই, কিন্তু কিছুদিন পর? ভারী আসবাব জায়গা বেশি নেয়। আর বাচ্চা-কাচ্চার জন্য সবসময় হালকা জিনিসই ভালো। তাই সামনের দিনের কথা ভাবুন আর সেইভাবেই সাজিয়ে তুলুন আপনার আপন আঙিনা।

শিখে ফেলুন স্প্রে পেইন্ট

খুব আধুনিক একটি ধারণা এই স্প্রে পেইন্ট। নিজে নিজেই শিখে ফেলতে পারেন। অসংখ্য টিউটোরিয়াল পাবেন ইন্টারনেটে। স্প্রে পেইন্ট একাধায়ে ঘরের একপাশের দেয়ালে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। নতুন একটা লুক আনবে এছাড়াও পুরনো ভাঙা আসবাবেও স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এক নজরে ঘরের চেহারা পাল্টে দিতে যথেষ্ট। আমার মতে খুব শীঘ্রই এটি শিখে ফেলা উচিত আপনার। অনেক খরচ বেঁচে যাবে।

ঝেড়ে ফেলুন কার্পণ্য

ভালো জিনিস কিনতে কখনো কার্পণ্য করবেন না। মনে রাখবেন ঘরটি আপনার। নিজের ব্যাক্তিত্বের প্রকাশ এই ঘরের মাধ্যমেই মানুষের কাছে প্রকাশ পায়। তবে এটা ঠিক যে অনেক ব্যাপারেই আপনার খরচ বাঁচিয়ে চলতে হবে। কিন্তু তার মানে এইনা যে কঞ্জুষ হতে হবে। যেমন ধরুণ বিছানার চাদর। ঘরের একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে থাকে।। সাথে আছে পর্দা, কুশন, বালিশের কভার, কার্পেট। এগুলোর ব্যাপারে কখনোই কার্পণ্য করবেন না। আরো যেমন ধরুন চায়ের টেবিল, ট্রে। এগুলোই গেস্ট এর সামনে আসে বেশি। যথাসাধ্য চেষ্টা করুন সেরা এবং সুন্দর জিনিসটি কিনতে।

একের ভেতর দুই

এমন অনেক আসবাব বর্তমানে পাওয়া যায় যা একই সাথে অনেক কাজ করতে পারে। সেটা হতে পারে ইলেক্ট্রনিক বা কাঠের তৈরি। এই যেমন ড্রেসিং টেবিল এর টুল। এটা একই সাথে বসার কাজে ব্যবহার করা যায় আবার নাশতা দেবার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে। আরো যেমন বড়সর কিছু জিনিষের মধ্যে আছে ড্রয়িং রুমের ডিভান। ইচ্ছে হলেই সেখানে শুয়ে রাত কাটানো যায়। এমন একই সাথে বিভিন্য কাজে ব্যবহার করা যায় আসবাব কিনুন। নতুনত্ব আসবে আর জায়গাও বাঁচবে।

কিছু সঞ্চয় রাখুন দরকারি জিনিসের জন্য

সঞ্চয় করাটা খুব জরুরি। আপনি যখন ঘরের জন্য শপিং করছেন, কিছুনা কিছু ব্যাপার ভুলে যাবেনই। তাই কিছু বাজেট হাতে রাখুন। এই ধরুন আপনি খুব সুন্দর একটি ডাইনিং টেবিল কিনেছেন।হাতে কিছু টাকা রাখেননি বলে এটার জন্য পরিপাটি একটি ডিনার সেট কিনতে পারছেন না। এমন যেনো না হয়। এছাড়াও হঠাত দামি কোন জিনিস ভেঙ্গে গেলে যেনো সাথে সাথে কিনতে পারেন, তাই কিছু সঞ্চয় সবসমইয় রাখুন।

পুরোন দিনের আসবাব ফেলে দেবেন না

অনেক সময়ই আমরা পুরনো দিনের আসবাব ফেলে দেই এই ভেবে যে এটা আধুনিকতার সাথে যায় না। সত্যি বলতে খুবই ভুল ধারণা এটি। মা-বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া পুরনো কিছু আসবাবপত্র সযত্নে নিয়ে আসুন। নতুন ভাবে বার্নিশ করে দেখুন কেমন লাগে। পুরো ঘরের চেহারাই পাল্টে দেবে। আর আপনার অ্যাপার্টমেন্টে বনেদি বনেদি ভাব নিয়ে আসবে। কোন কিছুই ফেলার না। শুধু দরকার সঠিক জিনিসটি চিনতে পারা।

ব্যবহার করুন ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি

ছোট্ট এই অ্যাপার্টমেন্টটি ঘিরে আমাদের কতই না বাসনা। তাই খেয়াল রাখবেন জেনো সঠিক ভাবে প্রতিটি খালি জায়গা ব্যবাহার করা হয়। যেমন ধরুন ড্রয়িং রুমের কর্নার। কখনই এটা নিয়ে ভাবি না। অথচ কম খরচে যেকোন কর্নার শো-কেস রাখা যায়। এছাড়া পাওয়া যায় বাহারি রকমের স্ক্লাপচার। আবার যেমন চিন্তা করুন বিছানার নিচের খালি জায়গাটি। খুব ভালো ভাবেই ভারী অদরকারী জিনিসপত্র সেখানে রাখতে পারেন। কর্নার শো-কেসে ঘর সাজুনি রাখার পাশাপাশি সাজিয়ে রাখতে পারেন বই-পত্র। ঘরটা খুব সুন্দর লাগবে।

ঘরের আলো বাতাস

এটা নিয়ে শেষে কথা বললেও গুরুত্ব কিন্তু কম না। আলো বাতাসের সুব্যবস্থা না করে যতই ঘর সাজান, কোন কাজে দিবে না। বাতাস আসা যাওয়া করতে না পারলে ঘরে ভ্যাপসা একটি আবহাওয়া তৈরী হয়। আর সু-স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক আলো বাতাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ঠিক ভাবে যেনো আলো প্রবেশ করতে পারে তাই দরজা বা জানালার সামনে কোন ভারি পর্দা লাগাবেন না। আর বাতাস ঠিকভাবে সঞ্চালনের জন্য যেকোন জায়গায় কখনই ভারী আসবাব রাখবেন না। খেয়াল রাখুন এগুলোর প্রতি। যতই কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করুন, ন্যাচারাল লাইট বা সূর্যের আলোর কোন বিকল্প নেই।

বর্তমানে ঢাকা সহ সারা বাংলাদেশে নতুন কিছু হোম ডেকর কোম্পানি আছে যারা কম খরচে খুব সুন্দর করে আপনার ঘর সাজিয়ে তুলতে পারে। সম্প্রতি ঢাকায় যাত্রা শুরু করেছে মেলিওর ডেকো। মিরপুর ডিওএইচেস এ অবস্থিত এই হোম ডেকোর এজেন্সি থেকে আপনি চাইলেই কম খরচায় আপনার অ্যাপার্টমেন্টটি সাজাতে সবকিছু পাবেন। দেয়াল পেইন্টিং, সেন্টারপিসেস, ল্যাম্প থেকে শুরু করে লাইট, সোফাসেট, অফিস আসবাব সব কিছুই পাবেন কম খরচে।

কেমন লাগলো টিপ্স গুলো? জানাতে ভুলবেন না। আরো কিছু পোস্ট শীঘই আসছে ঘর সাজানো নিয়ে। সাথেই থাকবেন।

ভালোবাসায় ভালোলাগার ভালোবাসা

রুচিশীলতার সাথে যদি সাধ এবং সাধ্যের সমন্বয় না থাকে, তাহলে একটি ঘর কখনোই ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয় না। হোক না ঘরটি ছোট, গৃহসজ্জায় রুচিশীলতা না থাকলে সেখানে যতই টাকা খরচ করা হোক, প্রাণ আসবে না।আমাদের সবার মনেই ইচ্ছা থাকে ঘরটি সুন্দর করে সাজানোর। সেটা হতে পারে নিজে হাতে, হতে পারে ইন্টেরিওর ডিজাইনার দিয়ে। আসল বিষয় হলো ঘরটিকে যেন আপন ঠিকানা মনে হয়। ভালোবাসা দিয়ে ভালোলাগার এই ঘরটিকে নিত্য নতুন আসবাব দিয়ে সাজানোর প্রয়াস থাকে সবসময়। কেননা, বাসাটি শুধু মাথা গোঁজার ঠাই ই নয়, একটি নিজস্ব পৃথিবী।

সদা সর্বস্ব দিয়ে আমাদের চেষ্টা থাকে যেন ঘরের মানুষের মতো ঘরটিও যেন সুন্দর হয়। মিল থাকে যেন বাসার আসবাব ও রঙের সাথে মানুষের মনের। ব্যাক্তিত্বের যথাযথ বহিপ্রকাশ পায় আর সাথে সাথে অপার শান্তিটুকো মিলে। বাঙালিপনার সহজাত প্রবিত্তি এটি। ঘরকে ঘিরেই আপন দুনিয়া। ঘরকে ঘিরেই দিনের আবর্তন। আধুনিকতার ছোঁয়ার সাথে বাঙালি আবহ বজার রাখার প্রয়াস আমাদের অনন্ত।

যার নিজের মতো একটি ঘর নেই, সে কখনই জানবে না নিজস্বতার কি মূল্য। কি আনন্দ সেই পৃথিবীতে। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, আমরা অনেক সময়ই সাধ আর সাধের মিল ঘটাতে গিয়ে রুচিশীলতার পরিচয় দিতে পারি না। অনেক ভুল করে ফেলি। যার ফলে ভালোবাসার সেই বাসাটি আমাদের ব্যক্তিত্বের প্রকাশক হয়ে উঠে না। আমরা খুব করে চাই,অ্যাপার্টমেন্টটি ছোট বা বড় হোক, সেখানে যেন অনুভব হয়, ঘরটি আমার।এই ঘরের মানুষের মত ঘরটিও পরিচ্ছন্ন, নিরিবিলি আর আদর্শ।

ঘর সাজাতে আমরা যে ছোটখাট ভুল গুলো করে থাকি, সেগুলো নিয়েই আজ আমরা একটু বিশদ আলোচনা করবো। চলুন এক নজরে দেখে আসি অ্যাপার্টমেন্ট সাজানোর সময় আমাদের ছোটখাটো ভুলগুলো।

ঘরের সাজ সবসময় একই রাখা

এই ভুল আমরা কম বেশি সবাই ই করে থাকি। এক সাজে কোন ঘর বেশিদিন রাখলে, তার প্রতি টান কমে যায়। যেমন আপনি যদি কোন একটি স্থানে নির্দিষ্ট কোন ফার্নিচার বেশি দিন ফেলে রাখেন, প্রতিদিনের চলাফেরায় আপনি এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন যে, সেটার প্রতি আকর্ষণ একেবারেই কমে যাবে। ভুলেও ফিরে তাকাবেন না সেই আসবাবের দিকে। আর তখনই চিন্তা করবেন নতুন ফার্নিচার কেনার কথা। একটু ভেবে দেখুন। খুবই বাস্তবস্মমত ব্যাপার এটি যা সবাই করে থাকি কোন না কোন সময়। ভালোলাগার সেই ঘরে চলে আসবে একঘেয়েমি শুধুমাত্র সাজ না বদলানোর দরুন।

২-৩ মাস পর পর তাই আসবাব পত্র নাড়াচাড়া করুন। পাল্টে ফেলুন আপনার অন্দরসজ্জা। একঘেয়েমি কেটে যাবে। আপন ঘরের প্রতি সেই হারানো টান ফিরে আসবে প্রবল ভাবে।

খালি জায়গা না রাখা

কোন খালি জায়গা দেখলেই হয়। দুম করে সেখানে কিছু রাখা চাই ই চাই। হোক সেতা দেয়ালের কোন অংশ, বুক শেলফ বা টেবিল, কিংবা ড্রয়িং রুম এর কোন খালি জায়গা। খুবই খারাপ একটি স্বভাব। খালি জায়গা পেলেই সেটা কোন কিছু দিয়ে পূর্ণ করার জন্য উঠেপড়ে লাগবেন না। সত্যি বলতে এটা এক ধরণের জঞ্জাল জমানোর মত অবস্থা। আমরা নিশ্চয়ই কেউই চাই না আমাদের ঘরটি দেখতে জঞ্জালের মত লাগুক। আর সবচেয়ে বড় যে ভুলটি আমরা করি তা হলো সেই খালি জায়গাটিতে রাখার জন্য হালকা কোন ঘর সাজানি জিনিস না কিনে কিনে আনি আসবাবপত্র। একবার ভেবে দেখুন তো, এভাবে চলতে থাকলে কিছু বছর পর আপনার বাসার কি অবস্থা হবে? ঘরে হাঁটাহাঁটি বা পা রাখারই কোন জায়গা থাকবে না। সেই ঘরে নিঃশ্বাস নিবেন কেমন করে। আর যদি বাচ্চা কাচ্চা থাকে তাহলে তো কথাই নেই।

এই অপরিকল্পত কেনাকাটা সুন্দর একটি অ্যাপার্টমেন্ট নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। ঘরে যদি আপনি আসবাবপত্রের জন্য চলাফেরাই করতে না পারেন, তাহলে সেটা কি ঘর থাকে বলুন?

ছবি দেখে ঘর সাজানোর চেষ্টা

অনেকেই আমরা এই ভুলটি করে থাকি। পত্রিকায় বা ইন্টারনেটে কোন ঘরের ছবি আমাদের মনে ধরে গেলে সেইভাবে ঘর সাজানো শুরু করি। এখানে এটা আসলে কোন ভুল না। তবে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হবে এই ক্ষেত্রে। যেনতেন ভাবে আসবাব কিনে ছবির মত রাখলে সেই ঘরের সৌন্দর্য বলে কিছু থাকবে না। সর্ব প্রথমে খুব ভালো করে ছবির ঘরের সাথে আপনার নিজের ঘরের নকশা মিলিয়ে নিন। আপনার বাড়ির কাঠামো আর ছবির কাঠামো কি এক? ছবির ঘর গুলো দেখবেন একেবারে যেন ছকে আঁকা। ছবির ঘরে দেয়ালের অবস্থান, জানলা থেকে দরজার দূরত্ব সবকিছু মেপে নিন। তারপর সেই অনুপাতে নিজের ঘরে আসবাব সাজান। সাথে নিজের ঘরের আকার আয়তন মেপে নিন এবং ছবির ঘরের সাথে মিলিয়ে দেখুন। যদি সব মিলে যায় তাহলে ছবির মতই সুন্দর লাগবে আপনার ঘর। আরো একটি বিষয় খেয়াল রাখুন।

ছবির ঘর যদি আধুনিক হয় আর আপনার বাড়ির কাঠামো যদি হয় পুরাতন, তাহলে যতই আকার আয়তন মিলুক, সেভাবে সাজালে নিতান্তই বেখাপ্পা এবং বেমানান লাগবে। আশা করি এই ভুল গুলো আমরা খেয়াল রাখবো।

আবোল তাবোল কেনাকাটায় টাকা খরচ করা

এই ভুল সচরাচর আমরা নতুন বাসায় উঠার সময় করে থাকি। আর তখন এই ঘর সাজানো নিয়ে মনে পাগলামি একটা ভাব থাকে। আর এই সময়টায় যখন নিজের সাধ, পছন্দ আর রুচির সাথে সাধ্যের মিল করা না হয়, তখনই ঘটে বিপত্তি। সবচেয়ে বড় প্রবণতা থাকে কোনটা ছেড়ে কোনটা কিনব। সব কিছুই তখন চোখের সামনে দৃষ্টি নন্দন মনে হয়। আরে এই দিশেহারা মনোভাবের পাল্লায় পরে আবোল তাবোল জিনিস কেনা হয়। এমন ও অনেক সময় হয় যে ঘরের সাজের সাথে যাচ্ছে না, তবু ভালো লাগছে বলে আমরা কিনে ফেলছি। এভাবে ক্রমে ক্রমে অপ্রয়োজনীয় আর বেমানান আসবাবে ভরে উঠে ঘর। তখন নিজেকে নিজে সান্তনা দেই এই বলে যে একবার ঘর পুরো সাজানো হয়ে গেলে অতটা খারাপ লাগবে না। এই ধ্যান ধারণাটি খুব খারাপ। একবার কেনা হয়ে গেলে, যেকোন আসবাব বদলানো মুশকিল।

তাই এখন থেকেই এই বিষয়ে ভাবা শুরু করুন। একটি টোটাল লিস্ট তৈরী করে ফেলুন কি কি আসবাব এবং ঘর সাজানি জিনিস কিনবেন। মার্কেটে গেলে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। দেখবেন পরিপাটি ভাবে সেজে উঠেছে আপনার আপন ঠিকানা।

নতুন ও পুরাতনের সঠিক সমন্বয় না করা

ঘরে যে কেবল নতুন মালামাল ই থাকবে তা কিন্তু নয়। যদি পুরাতন আসবাব থাকে, তাহলে তা বিক্রি করে সব নতুন বা সব পুরাতন আসবাব দিয়ে ঘর ভর্তি করার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে দিন। এতে হয়তো আপনার বুদ্ধির প্রকাশ ঘটবে, কিন্তু কোন ভাবেই রুচিশীল বা সৃজনশীল হবে না। তাই সব দিক দিয়েই চিন্তা করুন। চেষ্টা করুন সমন্বয় ঘটানোর। যদি পুরনো আসবাবটি দশা সই সাইজের হয়, তাহলে তা বদলে ফেলাই ভালো। অথবা এতা দিয়ে নতুন কিছু বানিয়ে নিতে পারেন। আর যদি পুরনো আসবাবটি দেখতে সুন্দর এবং আধুনিক দুটোই হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই।

মনে রাখবেন, ঘর সাজানোর সময় কখনোই অধৈর্য হতে নেই। সঠিক আসবাব না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নতুবা ভুল জিনিস কিনে ক’দিন পরে আপনার নিজের ই আফসোস হতে পারে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভালো কিছু ভালো হোম ডেকর কোম্পানির মধ্যে গ্রাহকদের নিকট সঠিক সময়ে গতানুগতিক আসবাবপত্র পৌছে দেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মেলিওর ডেকো। মিরপুর ডিওএইচএস-এ অবস্থিত এই কোম্পানি টি সকল ধরনের হোম ডেকর সার্ভিস দিয়ে থাকে। বিশেষত তাদের বেশিরভাগ আসবাব, ঘর সাজানি, লাইট, পেইন্টিংস বাহির থেকে আমদানি করা। একবার ঢু মেরে দেখে আসতে পারেন।

ছোট ঘর নিয়ে ভাবনা?

ঘর যতো ছোট বা বড়ই হোক, সেটা আমাদের আপন একটি পৃথিবী। আর সেই ঘরটি সুন্দর আর শান্তিময় হউক সেটা আমরা সবাই চাই। বাঙালি মাত্রই শান্তি প্রিয়। আকাশের নিচে এক টুকরো জমিতে সুন্দর ও সুখি ভাবে থাকতে আমাদের থাকে নিদারুন অনন্তকালের চেষ্টা। বলা হয় নিজে ঘর, নিজ বাসার মত সুখ নাকি আর কোথাও নেই। আর তাই আমাদের সর্বোত্তম চিন্তা চেতনা সেই ঘরটি ঘিরেই থাকে। চেষ্টা থাকে ছিমছাম করে সাজিয়ে তোলার। সাধ আর সাধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা আপন ব্যাক্তিত্ব। তবে প্রায়সই আধুনিক ফ্ল্যাটগুলো অনেক ছোট হয়। সেজন্য সত্যি বলতে কিছু ভাবনা আমাদের এই ছোট ঘরের ব্যাপ্তি নিয়েও থাকে।

আমরা বর্তমানে ছোট ফ্ল্যাট এ অনেকটাই অভ্যস্ত। তবে ছোট্ট সেই বাসার অন্দরসজ্জা নিয়ে যেন আমাদের চিন্তার শেষ নেই। আমরা এখনও চিন্তা করি ভালোবাসার সেই ঘরে কোন আসবাব কোথায় রাখলে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে, কেমন আসবাব কিনলে ঘরের জায়গা ভালো দেখাবে, দেয়ালে কেমন রঙ হলে ভালো হয়, ঘর সাজানির জন্য কি কিনতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। সর্বোপরি আমাদের সমস্ত চিন্তাজুরেই থাকে কিভাবে ছোট এই ঘরটাকে আরো বুদ্ধি করে সাজানো যায় যাতে একটু বড় দেখায়। এমন হাজারো প্রশ্নের সমাহারে আমরা প্রায়সই খেই হারিয়ে ফেলি।

পছন্দ, চাহিদা, রুচিশীলতা এবং স্বক্ষমতা, এই চারটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে কিভাবে ছোট একটি ফ্ল্যাটকে নিজের পৃথিবীর মতো করে সাজানো যায়, আজ আমরা সেই ব্যাপার গুলো নিয়েই কথা বলবো। সম্প্রতি নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করা মেলিওর ডেকো’র কো-ফাউন্ডার এবং ডিরেক্টর মাহফুজুর রহমান, ছোট ঘরকে কিভাবে ভালো করে সাজানো যায় তা নিয়ে আলোচনা কিছু রুচিশীল পরামর্ষ দিয়েছেন। চলুন দেখি কিভাবে ছোট ঘরকে বড়সড় একটি ফ্ল্যাটের মতো করে সাজানো যায়।

আলো ও বাতাসের আনাগোনা

আলো বাতাসের ব্যাপারটি শুধু ছোট ঘরের জন্যই না, বড় ফ্ল্যাটের জন্য ও আবশ্যক। আলো বাতাসের সঠিক সঞ্ছালন ঘরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। দম বন্ধ করা অনুভুতিটা আর থাকে না। আলো বাতাস প্রবেশ করার রাস্তায় হাল্কা রঙের পর্দা ব্যবহার করা ভালো। আর ভারী আসবাব এসব স্থানে কখনই রাখা উচিত না। শুধু বাত্র ফ্যান বা এসির বাতাসে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সবাস্থ্যকর থাকে না। তাই সবার প্রথমে খেয়াল রাখুন আলো বাতাসের আনাগোনার বিষয়টি। এতে আপনার মনও প্রফুল্ল রাখে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা

একটি প্রবাদ প্রায়ই আমরা শুনি যে, মানুষের বাসার রান্নাঘর এবং বাথরুম, এই ২টি জায়গার অবস্থা দেখলেই নাকি তার রুচি এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ধারণা পাওয়া যায়। সাজানোটা অবশ্যই রুচির ব্যাপার। কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোন গাফলতি করা উচিত না কখনই। বিশেষ করে ছোট ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে, কখনো এটা নিয়ে হেলা ফেলা করা ঠিক না। শুধু বাথরুম বা কিচেন ই নয়, পুরো ঘরের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে পরিচ্ছন্নতার কোন বিকল্প কোন নেই।

রঙের কারসাজি

ছোট ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে দেয়াল বা ফারনিচারের রং একটি বিশাল অঞ্ছল জুড়ে থাকে। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন আসবাবপত্রের রঙ হালকা টাইপের কিছু হয়। তাতে দম বন্ধ করার ব্যাপারটি আর থাকে না। ছোট ঘরে থাকলেই যে সব কিছু সহ্য করে নিবেন। এই ধ্যান ধারণা থেকে এখন বের হওয়া উচিত। দেয়ালের রঙ হিসেবে উজ্জ্বল কিছু ব্যবহার করে দেখতে পারেন। সূর্যের আলোয় সেই রঙ পুরো ঘরে প্রতিফলিত হয়ে সম্পূর্ণ অনন্য একটি আবহ তৈরি হবে।

আসবাবে বৈচিত্র ও আকার

আসবাবপত্রে বৈচিত্র নিয়ে আসুন। সকল ফার্নিচার একই উচ্চতার কিনবেন না। ছোট ফ্ল্যাট আরো ছোট দেখাবে। তাই কিছুটা নিচু উচ্চতার আসবাব ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ঘর বড় দেখাবে এবং আলো বাতাসের সমাহার থাকবে সবসময়।

সবুজের সমারোহ এবং কৃত্রিম ফুল

ঘরে সজিবতা নিয়ে আসুন ছোটখাট গাছপালা দিয়ে। প্রাণবন্ত দেখাবে যদি হাল্কা আসবাব পত্রের পাশে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা যায় সবুজ বা রঙ বেরঙ্গের গাছগুলো। অথবা কৃত্রিম ফুল ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ঘরের চারিপাশ রঙ্গিন করে দিবে। ছোট ঘর সাজাতে সজীবতা আর সতেজটা আওন্যতম মুখ্য উপাদান।

ফ্লোরে টাইলসের ব্যবহার

বড় ফ্ল্যাট সাজাতে বিভিন্ন প্যাটার্নের টাইলস ব্যাবহার করা উত্তম। তবে ছোট ঘরের জন্য সাদা রঙের টাইলসই সবচেয়ে ভালো। সাদা টাইলস ঘরের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে আর ঘরকেও বড় করে দেখায়। যদিও সাদা রঙের টাইলস খুব সহজেই ময়লা হয়ে যায়, তাই বাথরুম এবং রান্নাঘরে অন্য রঙের টাইলস ব্যাবহার করে দেখতে পারেন।

ভারি আসবাবপত্রের ভাবনা

ছোট ঘরে যত কম পারা যায়, তত কম ভারী আসবাব ব্যাবহার করা উচিত। ভারি ফার্নিচার একাধারে বেশি জায়গা নেয়, আলো বাতাস চলাচলে বাঁধা দেয় এবং ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে। ভারি ডিজাইন ও যতটা পারা যায় ব্যবহার না করা ভালো। ছোট রুমের আকার আরো ছোট করে দেয়। তাই আইরন বা পারটেক্সের তৈরী আসবাব বানিয়ে নিতে পারেন। খরচ কম পরবে, গতানুগতিক হবে এবং ঘরের আকার ও বড় দেখাবে।

দেয়ালের সাজ

ছোট ঘরের দেয়ালে সাদা রঙ ব্যাবহার করা উত্তম। সাদা টাইলসের পাশাপাশি সাদা দেয়াল ঘরকে বিশাল দেখাবে আর দেখতেও ভালো লাগবে। দেয়ালে নানা রঙের ওয়াল পেপার ব্যবহার করতে পারেন বৈচিত্র এনে দিবে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই ওয়াল পেপার লম্বা লম্বি ভাবে লাগাবেন।

এছাড়াও দেয়ালে কোন আচর পরতে দিবেন না। সব সময় পরিষ্কার রাখুন অতিরিক্ত কোন রঙ বা পেইন্টিংস না রাখাই ভালো। নতুবা ছোট ঘর আরো ছোট দেখাবে। যে কোন ছবির ফ্রেম রাখলে সেটাও লম্বালম্বি ভাবে বাঁধাই করুন।

কৃত্রিম আলোর ব্যবহার

ঘরে পর্যাপ্ত আলো না ঢুকলে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করুন। বর্তমানে ঘরের সাইজ অনুযায়ী নানা রঙের এবং বাহারের লাইট পাওয়া যায়। ড্রয়িং রুমে সঠিক জায়গায় লাইট টি রাখুন। চাইলে কর্নারে ল্যাম্প ও রাখতে পারেন। রাতে এই আপনার এই ছোট দুনিয়া কেও আলোয় ভরিয়ে দিবে।

আয়না রাখা, না রাখা

ছোট ঘরে আয়না জিনিস টা খুব গুরুত্ব বহন করে। চেষ্টা করুন ডাইনিং বা ড্রয়িং রুমের একপাশ সম্পূর্ণ আয়না দিতে। রুমের আকার বিশাল দেখাবে আর ফ্ল্যাটও ছোট মনে হবে না আর। দরজা বা জানলায় থাই গ্লাস ব্যবহার করুন। খরচ কম হবে।

পরিপাটি ডাইনিং এবং ড্রয়িং রুম

সবার প্রথমে ড্রয়িং রুমের আসবাব পছন্দ করুন। বেতের চেয়ার বা সোফা কিনে দেখতে পারেন ছোট ফ্ল্যাটের জন্য। এছাড়াও কর্নার গুলোয় তাকের ব্যবস্থা করে বই রাখতে পারেন। দারুন দেখাবে আর ঘরের বাসিন্দার সুন্দর রুচি ও প্রকাশ করে।

আলাদা কোন ডাইনিং রুম না থাকলে, বসার ঘরের এক কোনায় ৪ ফিট বাই ৩ ফিট মাপের ডাইনিং টেবিল রেখে দেখতে পারেন। চারজন বসতে পারলেই হলো। চেয়ার গুলো ছিপ ছাম এবং স্লিম হলেই ভালো। জানালার পাশে হলে সবচেয়ে ভালো হয়।

ছোট একটি ঘরকে এমন সকল উপাদান দিয়ে সাজানোর সকল উপকরণ ই আছে মেলিওর ডেকো’র। যেকোন ধরনের আসবাব, হোক ডাইনিং বা ড্রয়িং রুমের, অথবা দেয়ালের পেইন্টিংস, লাইট, ল্যাম্প, এই সবের অনন্য সমাহারে পরিপূর্ণ মিরপুর ডিওএইচএসে অবস্থিত এই হোম ডেকর প্রতিষ্ঠনটি। সাথে যেকোণ ধরণের ইন্টেরিওর ডিজাইন সার্ভিস ও দিয়ে থাকে ছোট বা বড় ফ্ল্যাটের জন্য সমান ভাবে।

মনে রাখবেন। ঘরের রঙের গুরুত্ব ইনে। লাল বা হলুদ রঙ ব্যবহারের পূর্বে ভালো করে লক্ষ্যকরে নিন আপনার ব্যাক্তিত্বের সাথে কোনটি ভালো যায়। আনন্দ এবং উচ্ছলতায় কাটুক আপনার প্রতিটি সময়, আপনার ছোট্ট ঘরে।

Get a free quote for your project. Click here.